13/05/2026

ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা করতে যা যা লাগবে

 

👉ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা করতে যা যা লাগবে—👇


✔️ মূল পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৮ মাস মেয়াদ)

✔️ NID কার্ডের ফটোকপি

✔️ ২×২ ইঞ্চি রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)

✔️ ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি


👉 পেশা অনুযায়ী👇

✔️ চাকরিজীবী: NOC

✔️ ব্যবসায়ী: আপডেট ট্রেড লাইসেন্স

✔️ কৃষক: জমির পর্চা

✔️ শিক্ষার্থী: স্টুডেন্ট আইডি


👉আর্থিক প্রমাণ👇

✔️ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

অথবা

✔️ $150 ডলার এন্ডোর্সমেন্ট / SBI ট্রাভেল কার্ড


👉 অতিরিক্ত👇

✔️ পূর্বের ভিসার কপি (থাকলে)

✔️ লস্ট পাসপোর্ট হলে জিডি + নোটারি + লস্ট সার্কুলেশন

✔️ পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তন হলে কোর্ট এফিডেভিট ।

23/04/2026

শরীরের যে সংকেত দেখলে সাবধান হতে হবে


শরীর কখনো হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না, তার আগেই দেয় নানা সতর্কবার্তা। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে এই সংকেতগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু অনেক সময় আমরা এগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা সাময়িক অসুস্থতা ভেবে এড়িয়ে যাই। ফলে অজান্তেই বাড়তে থাকে বড় বিপদের ঝুঁকি। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক ঘাম এসবই হতে পারে গুরুতর অবস্থার আগাম ইঙ্গিত। তাই শরীরের এসব সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি, কারণ সময়মতো সচেতন হলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।


মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. সাঈদ হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোর একটি হলো হিট স্ট্রোক। এটি এমন একটি অবস্থা, যা যে কোনো বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। তবে হিট স্ট্রোক হঠাৎ করে ঘটে না, এর আগে শরীর নানা ধরনের সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে সহজেই বিপদ এড়ানো সম্ভব।


গরমের সময় আমাদের শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে ঘামের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে ঘাম হওয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়। ফলে শরীর ঠিকমতো ঠান্ডা হতে পারে না। এ অবস্থায় দেহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে।


এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তখনই দেখা দেয় হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তি বিভ্রান্ত আচরণ করতে পারেন, অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন বা খিঁচুনি হতে পারে। এ সময় শরীর একেবারে ঘামহীন হয়ে যেতে পারে, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। লিভার, কিডনি এবং পেশিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।


হিট স্ট্রোকের আগের সতর্কবার্তাঃ

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যখন ধীরে ধীরে ব্যর্থ হতে শুরু করে, তখন কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা যায়। অনেকেই এগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেন না। যেমন- হালকা মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি। অনেক সময় মানুষ ধরে নেয় ঘুমের অভাব বা অন্য কোনো কারণে এসব হচ্ছে, ফলে সতর্ক হওয়ার সুযোগ হারিয়ে যায়।


প্রচণ্ড গরমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, অবসন্ন লাগে। অনেকের বমিভাব হয়, এমনকি বমিও হতে পারে। মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম ভাব বা মাথা হালকা লাগা, এসবও সাধারণ লক্ষণ।


এ সময় কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়, বিরক্তি বেড়ে যায়। পেটে অস্বস্তি বা পেশিতে টান ধরতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, শরীর গরম হয়ে যাওয়া, ত্বক লালচে হয়ে ওঠা, এসব লক্ষণও দেখা যায়।


হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া, তীব্র তৃষ্ণা লাগা এসবই পানিশূন্যতার ইঙ্গিত। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া এবং পরিমাণ কমে যাওয়া এ অবস্থার আরেকটি লক্ষণ।


লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেনঃ

হিট স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। তাই এর আগের লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।


প্রথমেই কাজ বন্ধ করে বিশ্রামে যেতে হবে এবং ঠান্ডা জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীর ঠান্ডা করতে মুখ, মাথা, ঘাড়ে পানি দেওয়া যেতে পারে।


ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া বা বগল, গলা, কুঁচকিতে বরফ বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় রাখা শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।


বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, হাতপাখা বা ছোট ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করা বা কিছুটা খুলে দেওয়া উচিত, যেন শরীরে বাতাস লাগে।


অতিরিক্ত ঘাম হলে লবণ মিশ্রিত পানি, ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট পানীয় গ্রহণ করা উপকারী। ডাবের পানিও শরীরের জন্য ভালো কাজ করে।


কারা বেশি ঝুঁকিতেঃ

বয়স্ক মানুষ ও ছোট শিশুদের শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক দুর্বল, তাই তাদের ঝুঁকি বেশি। তবে তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষরাও ঝুঁকিমুক্ত নন। বিশেষ করে যারা রোদে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের সতর্ক থাকা জরুরি।


প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় সুরক্ষাঃ

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করা কঠিন নয়, প্রয়োজন শুধু সচেতনতা। গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন এবং নিয়মিত পানি পান করুন। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করা অভ্যাস করুন।


বাইরে বের হলে ছাতা ও পানি সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে ছোট পাখা ব্যবহার করতে পারেন। মুখে পানি দেওয়া এবং ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে আরাম পাওয়া যায়।


পানির জন্য প্লাস্টিকের বোতলের বদলে থার্মোফ্লাস্ক ব্যবহার করলে পানি দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকে। বোতলে আগে কিছু বরফ দিলে তা আরও কার্যকর হয়।


খাবারের ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি। ভারী ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে পানি সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। ফলমূল, সবজি, ঝোলযুক্ত খাবার ও পাতলা ডাল শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।


হালকা রঙের, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। রোদের সময় বাইরে না যাওয়াই ভালো। প্রয়োজনে কাজের সময়সূচি এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে তীব্র গরম এড়িয়ে চলা যায়।


সর্বোপরি, তীব্র গরমে নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের দিকেও নজর রাখা জরুরি। শিশুদের রোদে অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ করতে নিরুৎসাহিত করুন। যাদের পানি গ্রহণে সীমাবদ্ধতা আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ আছেন রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা বা শ্রমজীবী, যারা রোদে কাজ করেন। তাদের জন্য পানি ও বিশ্রামের ছোট উদ্যোগও বড় সহায়তা হতে পারে।


পথের প্রাণী ও পাখিদের জন্যও পানি রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নিয়মিত পানি পরিবর্তন করুন এবং পরিষ্কার রাখুন। পাশাপাশি গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন, এটি পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে সহায়ক।


সচেতনতা ও সামান্য যত্নই পারে হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি থেকে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনদের সুরক্ষিত রাখতে।

20/04/2026

বৈজ্ঞানিকভাবে সবুজের মাঝে হাঁটলে কেন মন ভালো হয়? জেনে নিন...


পার্কে বা বনের ভেতর দিয়ে বা সবুজের মাঝে হাঁটার পর আমরা যে প্রশান্তি অনুভব করি, তা কেবল মনের ভুল নয়— এর পেছনে রয়েছে গভীর জীববৈজ্ঞানিক কারণ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটালে মানুষের শরীরে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে। স্ট্রেস হরমোন কমানো থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং এমনকি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতেও প্রকৃতি দারুণ কার্যকর।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপকারিতা পেতে আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হবে না। মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির মাঝে থাকলেই এর সর্বোচ্চ ইতিবাচক প্রভাব শরীরে দেখা যায়। সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট বা দুই ঘণ্টা সবুজের মাঝে কাটালে মানসিক সুস্থতা এবং সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। যুক্তরাজ্যের মতো দেশে এখন চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীকে সুস্থ রাখতে প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।


কিভাবে কাজ করে প্রকৃতি?

প্রকৃতির সান্নিধ্য আমাদের শরীরে প্রধানত চারটি উপায়ে পরিবর্তন আনেঃ


১। স্নায়ুতন্ত্রের প্রশান্তিঃ সবুজ গাছ দেখা বা পাখির গান শুনলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়। এতে হৃদস্পন্দন ধীর হয় এবং রক্তচাপ কমে আসে।


২। হরমোনের ভারসাম্যঃ বাইরে সময় কাটালে শরীরের কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, গাছপালা থেকে আসা সুগন্ধ বা তেল শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।


৩। ঘ্রাণের জাদুঃ পাইন বা মাটির গন্ধ রক্তপ্রবাহে মিশে গিয়ে মনকে শান্ত করে। এমনকি ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও এই সুগন্ধিগুলো জাদুর মতো কাজ করে।


৪। উপকারী ব্যাকটেরিয়াঃ মাটি ও গাছপালায় এমন কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখে।


প্রকৃতিকে ঘরে আনার উপায়ঃ

সবার পক্ষে সবসময় বনে-জঙ্গলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির ভেতরেও ছোটখাটো পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব। যেমনঃ


১। বাড়িতে সাদা বা হলুদ গোলাপ রাখা, যা মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনে।


২। পাইন বা এসেনশিয়াল অয়েলের ডিফিউজার ব্যবহার করা।


৩। এমনকি ল্যাপটপে বা ঘরের দেয়ালে প্রকৃতির ছবি থাকলেও তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।


সুস্থ থাকতে দিনের কিছুটা সময় সবুজের সান্নিধ্যে কাটানো এখন বিলাসিতা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনে অপরিহার্য।

06/04/2026

হামে আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যা


হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। হামের ভাইরাস দেহে প্রবেশের ১-২ সপ্তাহ পর অসুখ শুরু। তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কানের পেছনে, গলার পাশে, চুলের গোড়া ধরে র‌্যাশ দেখা যায়। জ্বর ওঠে ১০৪-১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত। র‌্যাশ প্রথম ২৪ ঘণ্টায় পিঠ, পেট, ঊরু ও দ্বিতীয়-তৃতীয় দিনে পায়ের পাতায় থাকে।


শিশুর হাম হয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে কিছু উপসর্গ দেখলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি জটিল হতে চলেছে। উপসর্গগুলো হলো শিশু বুকের দুধ বা পানি পান করতে পারছে না, যা খাচ্ছে সবই বমি করে দিচ্ছে ও খিঁচুনি হচ্ছে।


শিশুর চিকিৎসা ও পরিচর্যাঃ

শিশুকে বারবার বুকের দুধ ও স্বাভাবিক খাবার খেতে দিতে হবে। নিউমোনিয়া হলে খাওয়াতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক। কান পাকা, রক্ত আমাশয়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া বা ক্রুপ দেখা দিলে সেসবের ব্যবস্থাপনা করতে হবে। ১০২ ফারেনহাইটের ওপর জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল দিতে হবে। জ্বর যদি তিন থেকে চার দিনের বেশি থাকে, তবে এর সঙ্গে অন্য কোনো সংক্রমণ আছে কি না, সেটা নির্ণয় করা জরুরি।


ভিটামিন এ-র অভাব বা ক্ষতিকর ওষুধে চোখের কনজাংকটিভাইটিস, কর্নিয়া বা রেটিনার ক্ষতি হতে পারে। চোখ থেকে পরিষ্কার পানি বের হলে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কিন্তু চোখে পুঁজ দেখা গেলে জীবাণুমুক্ত তুলা অথবা পরিষ্কার কাপড় ফোটানো পানিতে চুবিয়ে চোখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। চোখে সাত দিনের জন্য প্রতিদিন তিনবার টেট্রাসাইক্লিন আই অয়েন্টমেন্ট দেওয়া যায়। চোখে জীবাণু প্রতিরোধকারী প্যাড ব্যবহার করতে হবে।


মুখে ঘায়ের কারণে শিশু যদি খেতে না পারে ও পানি পান করতে না পারে, তবে পরিষ্কার লবণ দ্রবণ পানিতে অন্তত দিনে চারবার মুখের ভেতর পরিষ্কার করে দিতে হবে। এক কাপ পরিমাণ ফোটানো পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে এই দ্রবণ তৈরি করা যায়। মুখের ঘা যদি প্রবল হয় বা দুর্গন্ধযুক্ত থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।


হামে আক্রান্ত শিশুকে র‌্যাশ ওঠার সময় থেকে অন্তত চার দিন অন্য শিশুর সংস্পর্শে আসতে দেওয়া যাবে না। হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডে রাখতে হবে। ভর্তিকৃত হাম শিশুরোগীর সংস্পর্শে আসা ছয় মাসের বেশি বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া থাকতে হবে। ইতিমধ্যে টিকা পেয়েছে ৬ থেকে ৯ মাসের এমন শিশু যদি সংস্পর্শে আসে, তবে আরেক ডোজ হামের টিকা দিতে হবে।


যদি এক মাসের মধ্যে ভিটামিন-এ পায়, তাহলে দুই ডোজ ভিটামিন-এ দিতে হবে। প্রথম ডোজ তৎক্ষণাৎ, দ্বিতীয় ডোজ দ্বিতীয় দিনে দিতে হবে। শিশুর চোখে যদি এ ভিটামিনের অভাবজনিত লক্ষণ থাকে বা শিশু যদি মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগে,Ñতবে দু-চার সপ্তাহ পর তৃতীয় ডোজ দিতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য ৫০ হাজার, ৬-১১ মাস বয়সীদের ১ লাখ, ১২ মাস থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য ২ লাখ আইইউ দিতে হবে। পরিস্থিতি জটিল হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

-সংগৃহীত ।

05/04/2026

যেসব অভ্যাসে ভালো ঘুম হয়




রাতে ভালো ঘুম  চাইলে প্রস্তুতি শুরু করতে হয় দিনের বেলাতে। কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে কম ক্লান্ত লাগতে পারে, শরীরে বাড়বে শক্তিও। অনেকেই সব সময়ই ক্লান্ত বোধ করেন। এটা খুব সাধারণ সমস্যা।

সময়মতো ঘুমাতে যেতে হবে, বিছানায় ফোন ব্যবহার করা যাবে না- এমন অনেক কথাই আমরা শুনে থাকি। এগুলো একদমই সঠিক। তবে ভালো ঘুম শুধু রাতের বিষয় নয়। দিনের অভ্যাসও এতে বড় ভূমিকা রাখে।

জেগে থাকা অবস্থাতে কিছু পরিবর্তন আনলেই উপকার পাওয়া যেতে পারে। ঘুমের সময় পরিবর্তন না করেও আপনাকে বেশি সতেজ রাখতে পারে-  এমন পাঁচটি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো এখানে।


আয়রনের মাত্রা ঠিক রাখাঃ

বিশ্বে প্রায় প্রতি তিনজনের একজনের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকে। শিশু, কিশোরী, সন্তান ধারণের বয়সী নারী, গর্ভবতী, খেলোয়াড়, নিরামিষভোজী এবং নিয়মিত রক্তদাতাদের ঝুঁকি এইক্ষেত্রে বেশি।

আয়রন কম হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, অস্থিরতা দেখা দেয়। এমনকি রাতে ঘুম ভেঙেও যেতে পারে।

ঘুমের পরিমাণ ঠিক করেও যদি ক্লান্তি না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। প্রয়োজনে রক্তে ফেরিটিন বা হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করতে হতে পারে।


খাবারের দিকে খেয়াল রাখাঃ

মাংস, মাছ ও ডিমের আয়রন সহজে শরীরে শোষিত হয়। ডাল ও সবুজ শাকেও আয়রন আছে। এর সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে উপকার বেশি হয়।


সবজি ও ফল বেশি খাওয়াঃ

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি ফল ও সবজি খান, তাদের ঘুম তুলনামূলক ভালো হয়। আর যারা বেশি ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় খান, তাদের ঘুম ভালো হয়না। বিশেষ করে ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ অনুসরণকারীদের ঘুম ভালো হয়। এতে থাকে বেশি সবজি, ফল, বাদাম, ডাল, শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার।

আবার যারা রাতে পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যায়। খাদ্য ও ঘুমের সম্পর্ক সব সময় একরকম না হলেও দুটো একে অন্যকে প্রভাবিত করে- এমন ধারণা আছে।

ক্লান্ত থাকলে আমরা বেশি জাঙ্ক ফুড খাই। আর এসব খাবার ঘুমের ধরণ বদলে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি চর্বি ও চিনি খেলে গভীর ঘুম কমে যায়। আবার স্বাস্থ্যকর খাবারে ফিরলে ঘুমও ভালো হয়। এমনটাই দেখা যায় বিবিসির একটি প্রতিবেদনে।  

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি খেলে নারীদের অনিদ্রা কমে। তাদের ঘুমের মানও কিছুটা উন্নত হয়। দ্রুত ঘুম আসে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তেমন দেখা যায়নি। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। নিয়মিত সবুজ সবজি খেলে তারা বেশি সতেজ থাকে। ঘুমও ভালো হয়।


ব্যায়াম করাঃ

ব্যায়াম করলে ঘুম ভালো হয়- এমন প্রমাণ রয়েছে। এতে দ্রুত ঘুম আসে। ঘুমের সময়ও বাড়ে। 

২০১৫ সালের এক বিশ্লেষণে ৬৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, কয়েক দিন ব্যায়াম করলেই ঘুমের উন্নতি শুরু হয়। নিয়মিত ব্যায়ামে ঘুমের মান আরও ভালো হয়।

তবে ব্যায়াম খুব কঠিন হতে হবে না। সপ্তাহে তিন দিন করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম সবচেয়ে উপকারী। দিনে মাত্র ১০ মিনিট করলেও উপকার মিলতে পারে। ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করলেও সমস্যা হয় না। যারা দিনের বেলা সময় পান না, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।

ব্যায়াম শুধু ঘুমই ভালো করে না। এটি শরীরকে সতেজ রাখে। এমনকি আগের রাতে ঘুম কম হলেও ব্যায়াম করলে নিজেকে ফ্রেশ লাগে।


অ্যালকোহল ও তামাক পরিহারঃ

ধূমপান করলে ঘুমাতে দেরি হয়। গভীর ঘুমও কমে যায়। অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করলে শুরুতে ঘুম পায়। কিন্তু নিয়মিত পান করলে উল্টো সমস্যা তৈরি হয়। এতে অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে। রাতের শেষ ভাগে ঘুম বেশি ভাঙে। নেশাজাতীয় দ্রব্য শুধু ঘুম নয়, পুরো শরীরেই ভয়ংকর খারাপ প্রভাব ফেলে। 


সকালের নাশতাঃ

কিছু গবেষণায় নাশতা খাওয়ার উপকার পাওয়া গেছে। প্রায় ৪৩টি গবেষণার এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নাশতা করলে মনোযোগ ও স্মৃতি কিছুটা বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া গেছে। আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে নাশতা করেন, তারা কম ক্লান্ত অনুভব করেন। এক গবেষণায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

নিয়মিত সময়ে খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাসে ক্লান্তি বাড়তে পারে।  তাই খুব ব্যস্ত হলেও সকালে কিছু খেয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন ডিম বা এক গ্লাস দুধ।এই অভ্যাস ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

-সংগৃহীত ।

24/03/2026

গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণায় ভুগছেন? সুস্থ্য থাকতে যা যা করবেন!


ভাজাপোড়া খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর দুশ্চিন্তার কারণে গ্যাস্ট্রিক এখন ঘরে ঘরে পরিচিত সমস্যা। বুক জ্বালাপোড়া করলেই আমরা চট করে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে ফেলি। কিন্তু নিয়মিত এভাবে ওষুধ খাওয়া লিভার বা কিডনির জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অথচ প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস বদলে ফেললেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


কেন হয় গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি?

পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ড থেকে যখন অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হয়, তখনই অ্যাসিডিটি দেখা দেয়। এর মূল কারণগুলো হলোঃ

🌰 দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা। 

🌰 অতিরিক্ত চা, কফি, ধূমপান বা মদ্যপান।

🌰 অনিদ্রা ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।

🌰 মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার অতিরিক্ত খাওয়া।


গ্যাস্ট্রিক এড়াতে যা যা করবেন

  1.  খাবারের সময়ঃ কোনো বেলার খাবার বাদ দেবেন না। বিশেষ করে রাতের খাবার ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সেরে ফেলার চেষ্টা করুন।
  2. অল্প অল্প খাওয়াঃ একবারে অতিরিক্ত না খেয়ে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  3. খাওয়ার পর বিশ্রামঃ খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না। কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন।
  4. বর্জনীয় খাবারঃ অতিরিক্ত রসুন, লবণ, তেল ও মরিচযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সাইট্রাস ফল (টক জাতীয় ফল) অতিরিক্ত খাবেন না।
  5.  নেশা ত্যাগঃ ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। 


ঘরোয়া সমাধানে ৩টি জাদুকরী খাবারঃ

পুদিনা পাতাঃ  এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং বুক জ্বালাপোড়া কমায়। কিছু পুদিনা পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠাণ্ডা করে পান করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

মৌরিঃ  খাওয়ার পর মৌরি চিবিয়ে খেলে পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধ হয়। এ ছাড়া সারারাত মৌরি ভিজিয়ে রাখা পানি সকালে খালি পেটে খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে।

টকদইঃ  টকদইয়ের ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমতে বাধা দেয়। এর ল্যাকটিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। ভালো ফলের জন্য টকদইয়ের সাথে সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে নিতে পারেন।

-সংগৃহীত ।

14/03/2026

ডায়াবেটিসে ক্ষুদ্র রক্তনালির রোগ


ডায়াবেটিস একটি রক্তনালিভিত্তিক রোগ। এতে ধীরে ধীরে শরীরের অতি সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সৃষ্ট মাইক্রোভাসকুলার রোগ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে জীবনমানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


কীভাবে এ রোগ হয়ঃ

রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রক্তনালির ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোটা ও শক্ত হয় রক্তনালির দেয়াল। রক্ত চলাচল কমে। অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাব দেখা দেয় টিস্যুতে। একে বলে ডায়াবেটিক মাইক্রোঅ্যানজিও, যা ধীরে ধীরে চোখ, কিডনি ও স্নায়ু আক্রান্ত করে।


যেসব উপসর্গ দেখা যায়ঃ

ডায়াবেটিসে চোখের রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুরুতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। আলো দেখলে চোখে ঝিলমিল লাগে। হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। দেরিতে চিকিৎসা নিলে স্থায়ী অন্ধত্ব হতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর থেকেই বছরে অন্তত একবার চোখের ফান্ডাস পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিস কিডনির ছাঁকনি ব্যবস্থা ধীরে ধীরে নষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন/প্রোটিন যাওয়া; পা, মুখ বা শরীর ফুলে যাওয়া; প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া ও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়।

ডায়াবেটিসে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব দেখা যায়। জ্বালাপোড়া বা পুড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়ে থাকে। অবশতা বা অনুভূতি কমে যায়। ব্যথা বেশি হয় রাতের বেলা। অনুভূতি কমে যাওয়ায় পায়ে ক্ষত হলেও রোগী টের পান না। এতে সংক্রমণ, ঘা ও শেষ পর্যায়ে ডায়াবেটিক ফুট ও পা কেটে ফেলার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


কারা ঝুঁকিতে, কীভাবে বুঝবেন?

১০ বছরের বেশি সময় ধরে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। যাঁদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে উচ্চ মাত্রার চর্বি আছে, ধূমপান করেন, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও পরীক্ষা না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বেশি হয়।

ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে জটিলতাগুলো নিরীক্ষণ করতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বুঝতে রক্তে তিন মাসের গড় শর্করা বা এইচবিএওয়ানসি পরীক্ষা করা হয়। এটি বছরে তিন বা চারবার করতে হবে ও এর লক্ষ্যমাত্রা ৭-এর কম, ক্ষেত্রবিশেষে ৬ দশমিক ৫-এর কম।


প্রতিরোধ ও চিকিৎসার মূলনীতিঃ

মাইক্রোভাসকুলার রোগ প্রতিরোধের প্রধান চাবিকাঠি ভালো শর্করা নিয়ন্ত্রণ। এ ছাড়া রক্তচাপ ১৩০/৮০-এর মধ্যে রাখা, এ ক্ষেত্রে এসিই ইনহিবিটর বা এআরবি গোত্রের ওষুধ কিডনির জন্য উপকারী। চর্বি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্ট্যাটিন থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। পায়ের নিয়মিত যত্ন ও পরীক্ষা করতে হবে।


ডায়াবেটিস মানেই জটিলতা অনিবার্য নয়। নিয়মিত চিকিৎসা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে এ রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

-সংগৃহীত ।

11/03/2026

হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা ? জেনে নিন প্রতিকার


অনেকেই হাড়ের জয়েন্ট বা গাঁটের ব্যথায় ভুগে থাকেন। অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন কিছু ছোট ভুল বা অভ্যাসের কারণেই এই ব্যথা প্রকট আকার ধারণ করে। চলুন, জেনে নিই কোন কাজগুলো আপনার অজান্তেই জয়েন্ট পেইন বাড়িয়ে দিচ্ছে।


একটানা বসে থাকাঃ

আমরা অনেকেই দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করি। এর ফলে জয়েন্টে এক ধরনের তরল বা ফ্লুইড জমে যেতে পারে। এই ফ্লুইড জমে গেলে পেশিতে টান ধরে (মাসল ক্র্যাম্প) এবং জয়েন্ট শক্ত হয়ে ব্যথা শুরু হয়। তাই কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ানো বা হাঁটাচলা করা জরুরি।


ভুল জুতো নির্বাচনঃ

পায়ের ধরণ অনুযায়ী সঠিক জুতো না পরলে গোড়ালি ও কোমরে ব্যথা হতে পারে। খুব বেশি হিল জুতো পরলে যেমন ক্ষতি, তেমনি একদম পাতলা চটি পরলে পা মচকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সবচেয়ে ভালো হলো পা ঢাকা আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতো পরা।


ভুল ভঙ্গিতে বসা বা কাজ করাঃ

ঘাড় ঝুঁকিয়ে মোবাইল দেখা, ল্যাপটপে কাজ করা কিংবা ঘাড় উঁচু করে টিভি দেখার কারণে ঘাড় ও কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এ ছাড়া খুব উঁচু বালিশে ঘুমানোর অভ্যাসও ঘাড় ও পিঠের ব্যথার অন্যতম কারণ।


শরীরে পানির অভাবঃ

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলেও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে পানি পান নিশ্চিত করুন।


শরীরচর্চায় অবহেলাঃ

ব্যায়াম করার সময় পেশিতে টান লাগলে অনেকেই তা অবহেলা করেন। এই ছোট ছোট চোট পরবর্তীতে বড় ধরণের জয়েন্ট পেইনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়

04/03/2026

রমজানে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা, সমাধান করবেন যেভাবে!!


প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর ইফতার ও সেহরিতে খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সময়ের তারতম্যের কারণে পরিপাকতন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে অনেকেই রোজার শুরু থেকেই গ্যাস, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, গলা-বুক জ্বলা ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যায় ভোগেন। তবে সচেতন খাদ্য নির্বাচন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে এসব সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 


রমজানে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ হলো সারা দিন খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভারী, তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ। এতে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হয় এবং গ্যাস, ঢেকুর ওঠা ও বুক জ্বলার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ সমস্যা এড়াতে ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে ১–২ দিন সীমিত পরিমাণে রাখা যেতে পারে। একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ভাগ করে খাওয়া উত্তম। একইভাবে একবারে অনেক পানি পান না করে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করা উচিত।


ইফতারের জন্য পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য মেনু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—দই-চিড়া, খেজুর, সেদ্ধ ডিম একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। এছাড়া ওটস ও সবজিসহ সেদ্ধ ডিম, বিভিন্ন প্রকার ফল, মিক্সড ফলের সঙ্গে টক দই এবং খেজুরও ভালো নির্বাচন অথবা ঘরে তৈরি হালিম ও ইফতারের মেনু হিসেবে রাখা যায়। এতে করে পাওয়া যায় ব্যালান্সড নিউট্রিশন। এসব খাবার শরীরে ধীরে শক্তি জোগায়, পরিপাক প্রক্রিয়া সহজ রাখে এবং অতিরিক্ত তেল গ্রহণ কমায়।


সেহরির ক্ষেত্রেও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সেহরি খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে গলা জ্বলা ও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। তাই সেহরি সম্পন্ন করে ফজরের নামাজ আদায় করার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা নড়াচড়া করে বসে বিশ্রাম নেওয়া উচিত, এরপর ঘুমালে তা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী হয়।


সেহরিতে এমন খাবার পরিহার করা উচিত নয় যা পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে। চর্বিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত তেলে ভাজা পদ, অতিরিক্ত ঝাল, চা ও কফি অ্যাসিডিটির মাত্রা বাড়াতে পারে। পরিবর্তে অল্প পরিমাণে ভাত বা রুটি, শাক-সবজি, ডিম, দুধ, মাছ বা মাংস গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে রান্নায় তেল-মসলার ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও তরল জাতীয় খাবার সেহরিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।


যাদের পূর্ব থেকে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করে নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। সঠিক সময় ও সঠিক মাত্রায় ওষুধ সেবন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোজা পালনে সমস্যা হয় না।


রমজানে খাবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুষম, সহজপাচ্য ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণ। অতিরিক্ততা পরিহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত জীবনযাপনই পারে রমজানে পরিপাকজনিত সমস্যা থেকে দূরে রাখতে এবং ইবাদতের জন্য শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।

- সংগৃহীত ।

28/02/2026

ইফতার ও সাহরিতে কোন ধরনের খাবার খাবেন!


এখন পবিত্র রমজান মাস। মুসলমানদের সারা বছর যে খাবারগুলো খাওয়া হয় না বললেই চলে বা কম খাওয়া হয়, এমন সব খাবার রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন খাওয়ার প্রচলনটাও কম নয়।


রোজা বা সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। তাই রোজা সবার জন্য অবশ্য পালনীয় ইবাদত। রোজা রেখে আমাদের খাবার যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে আমরা সুস্থ থাকতে পারব এবং আরও বেশি ইবাদত পালন ও দৈনন্দিন কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারব। এদিকে মাঘ মাস শেষ হয়ে চলছে ফাল্গুন। আবহাওয়ায় শুরু হয়েছে ঋতু পরিবর্তনের খেলা। দিনে কিছুটা গরম এবং রাতে অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা। ধীরে ধীরে বাড়বে তাপমাত্রা, এ অবস্থায় শরীর কিছুটা পানিশূন্য হয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক। কেমন খাবার হলে রোজা থেকেও সুস্থ ও সতেজ থাকা যায় চলুন জেনে নেওয়া যাক। 


ইফতারঃ

সারা দিন রোজা রাখার ফলে দেহ পানিশূন্যতায় ভোগে। তাই ইফতার হতে হবে হাইড্রেটিং এবং রিফ্রেশিং। এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে অনেক রকমের ফল। তাই ইফতারে যে কোনো ফ্রেশ ফ্রুট জুস বা কয়েকটি ফলের ফ্রুট ককটেল রাখতে পারেন যা আপনাকে করে তুলবে একদম চাঙা। খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন, এমন গুরুপাক খাবার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ছাড়াও ডায়রিয়া বা অন্যান্য পেটের অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই খেতে পারেন বেকড স্যান্ডউইচ, ওটস অথবা দই-চিঁড়া। তাছাড়া থাকতে পারে অল্প তেলে রান্না করা নুডলস। শুকনো ফল, খেজুর ও বাদাম হতে পারে শক্তির উৎস। ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত অবশ্যই ন্যূনতম আট গ্লাস পানি পান করবেন, তবেই শরীরে পানির কোনো অভাব হবে না। তাই সচেতন হোন।


রাতের খাবারঃ

অনেকেই ইফতারে অতিরিক্ত খেয়ে রাতের খাবারটি বাদ রাখেন, যা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। রাতে না খেয়ে থাকলে এসিডিটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে রোজা থেকে সারা দিন বুক জ্বালাপোড়া করে। তাই ডিনার একদম বাদ দেবেন না। কম খেতে চাইলে হালকা কিছু খেতে পারেন। যেমন একবাটি সবজির স্যুপ সঙ্গে এক স্লাইস ব্রাউন ব্রেড ও সিদ্ধ ডিম একটা। ভাত খেলে সবজি ও সালাদের আধিক্য রেখে পছন্দসই মাছ খেতে পারেন। 


সাহরিঃ

এটি একটু ব্যতিক্রম সময়ের খাবার। সাধারণত আমরা এ সময় খেয়ে অভ্যস্ত নই। আবার এ সময়ের খাবারের ওপর নির্ভর করে আমাদের সারা দিনের কর্মক্ষমতা। তাই সারা দিন যেন সতেজ থাকা যায় এমন খাবার খেতে হবে সাহরিতে। পানীয় জাতীয় খাবার যেমন ডাল বা স্যুপজাতীয় খাদ্য রাখতে হবে তালিকায়। সহজে পরিপাক হয় এমন খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত কষানো খাবার থেকে বিরত থাকুন। প্রোটিনের চাহিদা মাংসের পরিবর্তে মাছ বা দুধ দিয়ে পূরণ করুন। সবুজ শাক বা পানি জাতীয় সবজি যেমন- পেঁপে, লাউ, ঢ্যাঁড়শ ইত্যাদি খান। এখানে যেভাবে খাদ্য নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে তা সুস্থ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। যদি কোনো বিশেষ রোগ থাকে যেমন ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ, তারা ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করবেন।

24/02/2026

শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুঁড়িতে হোটেলে অবস্থানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সেখানকার হোটেল মালিকরা। 

সোমবার গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএইচডব্লিউএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন শিলিগুঁড়ির হোটেল মালিকরা। পরে ভিসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অ্যাসোসিয়েশন প্রাথমিকভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল; যা ভিসা কেন্দ্র বন্ধের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য হোটেলে অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পর্যায়ে পৌঁছায়।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় শিলিগুঁড়ির হোটেলগুলোতে এখন কক্ষ বুকিং করতে পারবেন  বাংলাদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। 

বিবৃতিতে জিএসএইচডব্লিউএ বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুঁড়িজুড়ে সদস্যভুক্ত হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবস্থান করা সংক্রান্ত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই দিন তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনের অবসান ঘটে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সদস্য হোটেল মালিকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটাভুটির আয়োজন করে। ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পুনরায় বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল বুকিং শুরু করার পক্ষে মত দেন।

জিএসএইচডব্লিউএ বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশের সরকার সীমান্ত পারাপারের বিধিনিষেধ শিথিল করায় অ্যাসোসিয়েশন উভয় দেশের সীমান্তসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে পারস্পরিক সদিচ্ছার বিষয়টি স্বীকার করছে।

অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশি অতিথিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও জোর দিয়ে বলেছে, ভারতের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সবার আগে। ভবিষ্যতে কোনো অসম্মানজনক কিংবা উসকানিমূলক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা দ্বিধা করবে না বলেও সতর্ক করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে যে, দেশই সবার আগে। ভবিষ্যতে আমাদের দেশের প্রতি কোনও অসম্মান বা উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনা ঘটলে আমরা আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।

-সংগৃহীত ।

অ্যাসপিরিন নিয়ে যেসব ভুল ধারণায় হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি


আমাদের নিকট অ্যাসপিরিন খুবই পরিচিত একটি ওষুধ। মাথাব্যথা বা শরীরব্যথা থেকে শুরু করে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগীদের কাছে এটি ‘জীবন রক্ষাকারী’ ওষুধ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছ অ্যাসপিরিন সেবন আপনার জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে, অ্যাসপিরিন নিয়ে রয়েছে নানা ভুল ধারণা বা মিথ।


ভুল ধারণা ১ ।  বয়স ৪০ হলেই নিয়মিত অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিতঃ

আমাদের অনেকের ধারণা, বয়স ৪০ বা ৫০ পার হলেই হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোক ঠেকাতে প্রতিদিন স্বল্প মাত্রার অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত। এটি একটি ভুল ধারণা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের আগে কখনো হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবন উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। এটি শরীরে, বিশেষ করে পাকস্থলী বা মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।


ভুল ধারণা ২ ।  বুকে যেকোনো ব্যথা হলেই অ্যাসপিরিন মহৌষধঃ

এখানে আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, বুকে সামান্য অস্বস্তি বা ব্যথা হলেই দ্রুত অ্যাসপিরিন খেয়ে নেওয়া ভালো। বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়। গ্যাস্ট্রিকের আলসার বা ফুসফুসের জটিলতায়ও বুকে ব্যথা হতে পারে। এমন অবস্থায় না বুঝে অ্যাসপিরিন খেলে পাকস্থলীতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।


ভুল ধারণা ৩ ।  শিশুদের জন্য এটি নিরাপদ ব্যথানাশকঃ

আমাদের অনেকেই শিশুদের জ্বর বা ব্যথায় অনেক সময় বড়দের এই ওষুধ ভেঙে খাইয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভাইরাসজনিত জ্বরের সময় শিশুদের অ্যাসপিরিন দিলে ‘রেইস সিনড্রোম’ নামের এক বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও লিভারের স্থায়ী ক্ষতি করে।


মুল কথা হলঃ  অ্যাসপিরিন মূলত রক্ত পাতলা করে। যাঁদের একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তাঁদের জন্য এটি অপরিহার্য হতে পারে। কিন্তু একজন সুস্থ মানুষের এটি নিয়মিত সেবন করার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, ওষুধ যখন জীবন বাঁচায়, ভুল ব্যবহারে তা জীবন কেড়েও নিতে পারে। তাই রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যার কথা ভেবে নিজে নিজেই অ্যাসপিরিন শুরু করবেন না। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

23/02/2026

জন্ডিস হলে কখন সার্জারি প্রয়োজন?


জন্ডিস একটি সাধারণ পরিচিত রোগ।আমাদের এমন কোন পরিবার নেই যাদের কারো না কারো এই রোগ হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ আপনা আপনি সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জন্ডিস ভাল হয়না যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া।আজকে কখন এই রোগের জন্য অবশ্যই সার্জনের পরামর্শ নেবেন সেই বিষয়ে আলোকপাত করব।


🔷 জন্ডিস কী?

জন্ডিস (Jaundice) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চোখের সাদা অংশ, ত্বক ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়। এটি নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের

ভেতরের সমস্যার একটি লক্ষণ।


🔷 জন্ডিসের প্রধান কারণগুলো কী?

জন্ডিস সাধারণত তিন ধরনের কারণে হয়-

১. লিভারের সমস্যা (হেপাটাইটিস, সিরোসিস)

২. রক্তের সমস্যা (হিমোলাইসিস)

৩. পিত্তনালীর সমস্যা (গলস্টোন, টিউমার, পিত্তনালীর সংকোচন)


🔷 জন্ডিস হলেই কি সার্জারি প্রয়োজন?

অধিকাংশ জন্ডিসে সার্জারির প্রয়োজন হয় না। তবে যদি জন্ডিসের কারণ হয় পিত্তনালীর

যান্ত্রিক বাধা (Obstructive jaundice), তখন অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি বা এন্ডোস্কোপিক

চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।


🔷 কোন ধরনের জন্ডিসে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে?

নিচের অবস্থাগুলোতে সার্জারি বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে—

১. পিত্তনালীতে পাথর (CBD stone)

২. গলব্লাডারের পাথর থেকে জন্ডিস

৩. পিত্তনালীর ক্যান্সার

৪. প্যানক্রিয়াসের টিউমার

৫. পিত্তনালীর জন্মগত সংকোচন


🔷 গলস্টোনের কারণে জন্ডিস হলে কী চিকিৎসা লাগে?

১. প্রথমে ঊজঈচ করে পিত্তনালী থেকে পাথর বের করা হয়

২. এরপর উপযুক্ত সময়ে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি (গলব্লাডার অপারেশন) করা হয়


🔷 ক্যান্সারের কারণে জন্ডিস হলে কি অপারেশন সম্ভব?

১. যদি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তাহলে সার্জারির মাধ্যমে আরোগ্য লাভ সম্ভব

২. দেরিতে ধরা পড়লে প্যালিয়েটিভ সার্জারি বা স্টেন্টিং করে জন্ডিস ও কষ্ট কমানো হয়।


🔷 কোন লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত সার্জনের কাছে যেতে হবে?

১. চোখ ও ত্বক বেশি হলুদ হওয়া

২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ, পায়খানা ফ্যাকাশে

৩. চুলকানি

৪. ওজন কমে যাওয়া

৫. জ্বরসহ জন্ডিস

৬. পেট ফুলে যাওয়া।

মনে রাখবেন প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে যেসব ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন অবশ্যই সার্জারি ই আপনাকে রোগ মুক্তি দেবে।কাজেই ভয় নয়,সচেতন হোন।রোগ নিয়ে হেলাফেলা নয়।

-সংগৃহীত ।

22/02/2026

ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার উপায়


রমজানের কয়েক দিন যেতেই সারা দিন ভালো থাকলেও ইফতারের পর শরীর ভীষণ ভারী হয়ে আসে, চোখে ঘুম নামে আর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। অনেকেই একে রোজার ক্লান্তি মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এর আসল কারণ আমাদের অন্ত্র বা গাট হেলথের ভারসাম্যহীনতা।


মানুষের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োটা। এরা শুধু খাবার হজমই করে না, শরীরের ৭০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করে।


এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেই পেট ফাঁপা, এসিডিটি বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।


কেন ইফতারের পর শরীর খারাপ লাগে?

সারা দিন বিরতির পর ইফতারে যখন আমরা একসাথে অনেক ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে যায়। দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ লাগে।


পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে পেট ভরে খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন।


রোজা কি শরীরের ক্ষতি করে?

না, বরং রোজা অন্ত্রের জন্য একটি ক্লিনিং প্রসেস বা পরিষ্কার অভিযান। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অন্ত্র বাড়তি ব্যাকটেরিয়া ও জমে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে নিজেকে সতেজ করার সুযোগ পায়।


কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সুযোগকে নষ্ট করে দেয়। সুস্থ থাকার ৫টি সহজ উপায়ঃ

১। ধীরগতিতে শুরুঃ খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি খাবেন না।

২। হালকা খাবারঃ শুরুতে স্যুপ বা ফলজাতীয় হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৩। প্রোবায়োটিক যুক্ত করুনঃ দই বা এ জাতীয় খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।

৪। সাহরিতে সচেতনতাঃ সাহরিতে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৫। মনোযোগ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়াঃ খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজমের কষ্ট অর্ধেক কমে যায়।

রমজান শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। একটু সচেতন হয়ে অন্ত্রের যত্ন নিলে রোজা হবে ক্লান্তির বদলে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক।

-সংগৃহীত ।

19/02/2026

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচি পরিবর্তন


দুই একদিন পরই মাহে রমজান। এ সময় মুসলিম ধর্মাবলম্বী ডায়াবেটিস রোগীদের (যারা রোজা রাখেন) ওষুধের মাত্রা ও সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়।


* রক্ত পরীক্ষার আদর্শ সময়ঃ

দৈনিক অন্তত ৩ থেকে ৪ বার (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য আরও বেশি) ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত।

🔷► সেহরির আগে : সেহরি খাওয়ার ঠিক আগে (ওষুধের ডোজ ঠিক করতে)।

🔷► সকালে : সেহরির ২ ঘণ্টা পর।

🔷► দুপুর ও বিকালে : বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এবং বিকাল ৪টার দিকে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বোঝার জন্য)।

🔷► ইফতারের ঠিক আগে : ইফতারের অল্প সময় আগে।

🔷► ইফতারের পর : ইফতার করার ২ ঘণ্টা পর।

🔷► অসুস্থ বোধ করলে : যে কোনো সময় যদি শরীর খারাপ লাগে, মাথা ঘোরে বা অতিরিক্ত ঘাম হয়।

* কখন রোজা দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবেঃ

সুগার পরীক্ষার ফল যদি নিচের মতো হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি।

🔷► সুগার খুব কমে গেলে : 3.9 mmol/L (70 mg/dL)-এর নিচে হলে।

🔷► সুগার খুব বেড়ে গেলে : 16.6 mmol/L (300 mg/dL)-এর বেশি হলে।

🔷► মারাত্মক অসুস্থতা : প্রচণ্ড পানিশূন্যতা, বমি বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হলে।

* রোজার সময় ওষুধঃ

🔷► একবার গ্রহণের ওষুধ : যদি কোনো ওষুধ দিনে একবার নিতে হয়, তবে সাধারণত তা ইফতারের সময় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

🔷► একাধিকবার গ্রহণের ওষুধ : দিনে দুইবার বা তিনবার গ্রহণের ক্ষেত্রে, ইফতার এবং সেহরির সময়ের মধ্যে মাত্রা ভাগ করে নেওয়া। এক্ষেত্রে সকালের মাত্রা ইফতারে এবং রাতের মাত্রা সেহরিতে নেওয়া হয়, অথবা মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়।

🔷► মেটফর্মিন (Metformin) : সাধারণত এটি সেহরি ও ইফতারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে অথবা বেশির ভাগ মাত্রা ইফতারে নেওয়া হয়।

🔷► সালফোনাইলইউরিয়া, ইনসুলিন : এ ওষুধগুলো হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এগুলোর মাত্রা কমানো বা সময় পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।

🔷► ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইফতারের আগে স্বাভাবিক মাত্রা এবং সেহরির আগে কম মাত্রা বা অর্ধেক মাত্রা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

- সংগৃহীত ।

18/02/2026

ইফতারে যা খেলে স্বস্তি পাবেন

রোজার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ভাজাপোড়া জাতীয় জিনিস খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলেন, মৌসুমি ফল রাখুন প্রথম সারিতে। কারণ মৌসুমি ফল শুধু টাটকাই নয়, এগুলো সহজপাচ্য, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে।


ইফতারের টেবিলে এক বাটি মৌসুমি ফল রাখতে পারলেই মিলবে স্বস্তি, পুষ্টি ও সতেজতা—তিনটিই একসঙ্গে।দেশের বাজারে উঠতে শুরু করেছে গ্রীষ্মের আগাম ফল। এ সময়ের সহজলভ্য কিছু ফল ইফতারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।


তরমুজঃ

প্রায় ৯০ শতাংশ পানি সমৃদ্ধ তরমুজ সারা দিনের পানিশূন্যতা কাটাতে কার্যকর। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ইফতারে ১-২ টুকরো তরমুজ শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করে এবং সতেজ অনুভূতি দেয়।


কলাঃ

সহজলভ্য ও শক্তিদায়ক ফল কলা। এতে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং পেশির দুর্বলতা কমায়। একটি মাঝারি আকারের কলা ইফতারে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।


পেঁপেঃ

হজমে সহায়ক এনজাইমসমৃদ্ধ পেঁপে দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর পেটের জন্য আরামদায়ক। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক।


আনারসঃ

ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিন এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস হজমে সাহায্য করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।


ডাবের পানি ও মাল্টাঃ

ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎস, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে কার্যকর। মাল্টা বা কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

-সংগৃহীত ।

17/02/2026

বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল




শুরু হতে যাচ্ছে মুসলিমদের সিয়াম-সাধনার মাস পবিত্র রমজান মাস। বিভিন্ন দেশের রোজা শুরুর সম্ভাব্য দিন-তারিখ প্রকাশিত হয়েছে। সৌদি আরবে রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অথবা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। চাঁদ দেখার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।


সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজা শুরুর পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রোজা শুরু হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশে রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী বৃহস্পতিবার  (১৯ ফেব্রুয়ারি) অথবা এর পরের দিন শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি)। ২০ ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন এবং ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে হিলাল বা চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।


শাবান মাসের ২৯তম রাতে সূর্যাস্তের পর বিভিন্ন কমিটি আকাশ পর্যবেক্ষণ করে। চাঁদ দেখা গেলে পরদিন থেকে রমজান শুরু হয়, না দেখা গেলে শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করা হয়। দুই দেশের বিভিন্ন শহরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বাস্তব চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা করা হয়। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অমাবস্যা।


তবে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেশি। সে ক্ষেত্রে প্রথম রোজা ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হতে পারে। তবে কোথাও আগে চাঁদ দেখা গেলে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু হতে পারে। আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। একইভাবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমজান শেষ হতে পারে ১৯ অথবা ২০ মার্চ।


ইসলামী চন্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, রমজানের সূচনা নির্ধারিত হয় হিলাল বা অর্ধচন্দ্র দেখার মাধ্যমে। সৌদি আরবসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বহু দেশ চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, কিছু দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ওপর নির্ভর করে চাঁদের অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে।


বাংলাদেশে চাঁদ দেখা কমিটি প্রতিবছর চাঁদ দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রোজা শুরুর বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে থাকে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তাদের ঘোষণার পর থেকে দেশে রোজা পালন শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।

-সংগৃহীত ।

10/02/2026

শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হয় কেন


শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে সবাই আতঙ্কিত হন। ধারণা করা হয়, নিশ্চয় মস্তিষ্কের কোনো জটিল রোগের লক্ষণ। কিন্তু ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি মস্তিষ্কের কোনো বড় রোগ ছাড়াও হতে পারে, যেটাকে বলা হয় ‘ফেব্রাইল সিজার’। এ ছাড়া আরও অনেক কারণে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হতে পারে, যেমন মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস, মস্তিষ্কে যক্ষ্মা ও মস্তিষ্কে পুঁজ বা ব্রেইন অ্যাবসেস। ফেব্রাইল সিজার কম বয়সী শিশুদের হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে রোগীর খিঁচুনি দেখা দেয়। কিছু জেনেটিক কারণ এবং বাচ্চার মস্তিষ্ক পরিণত না হওয়ায় এটি হয়ে থাকে।

ফেব্রাইল সিজার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় হলে থাকে না, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃগীরোগে পরিবর্তিত হতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস রোগে জ্বর ও খিঁচুনির সঙ্গে চেতনা হারিয়ে ফেলতে পারে রোগী। যক্ষ্মা অনেক সময় মস্তিষ্ককেও আক্রান্ত করতে পারে। একে ‘সিএনএস টিবি’ বলে। পরিবারের কেউ বা নিকটাত্মীয় কারও এই রোগ থাকলে তাতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বাচ্চাদের কানপাকা রোগ থাকলে তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একে ‘ব্রেইন অ্যাবসেস’ বলে।


পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও চিকিৎসাঃ

ফেব্রাইল সিজার রোগীর ইতিহাস শুনেই ডায়াগনোসিস করতে হয়। তেমন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ইইজি পরীক্ষা করা যেতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ, টিবি বা ব্রেইন অ্যাবসেস রোগ নির্ণয়ে এমআরআই করা হয়।

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রোগীকে বাঁ কাত করে শুইয়ে দেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খিঁচুনি নিজে থেকেই থেমে যায়। তাই রোগীকে নিরাপদ রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মুখে চামচ বা অন্য কোনো কিছু দেবেন না। এটা ভেঙে গিয়ে শ্বাসনালিতে চলে যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য শরীর স্পঞ্জ করা যেতে পারে। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটর মলদ্বারে দিতে পারেন। খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।


শিশু অতি সক্রিয় বা বেশি চঞ্চল হলে করণীয় কীঃ

ফেব্রাইল সিজারের শিশুকে পরবর্তী সময়ে অল্প জ্বর এলেই (৫-৭) দিনের জন্য প্যারাসিটামল ও ডায়াজিপাম–জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো উচিত। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনির কারণ যদি মস্তিষ্কে প্রদাহ, টিবি বা ব্রেইন অ্যাবসেস রোগ হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।

-সংগৃহীত ।

08/02/2026

পেঁপের বীজের উপকারীতা


ডায়েটিশিয়ান ও হেলথ কোচ বিধি চাওলার মতে, পেঁপের বীজে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন। এর পাশাপাশি এতে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই বীজ শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।


ওজন কমাতে সহায়কঃ

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের ডায়েটে পেঁপের বীজ হতে পারে একটি ভাল সংযোজন। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার কিছু খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ ফাইবারযুক্ত ডায়েট ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের অন্ত্রে থাকা কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হজম ও হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে জড়িত। পেঁপের বীজে থাকা ‘কারপেইন’ নামের একটি উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অন্ত্রের কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফোলা ও হজমজনিত সমস্যা কমতে পারে।


কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে উপকারীঃ

হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য কোলেস্টেরলের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। পেঁপের বীজে থাকা ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ভাল কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা ওলেইক অ্যাসিডও হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

অনেক মহিলাই ঋতুচক্রের সময় ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। পেঁপের বীজে থাকা ক্যারোটেনয়েডস ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটি পিরিয়ড ক্র্যাম্প কমাতেও সহায়ক হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।


ফুড পয়জনিং থেকে সুরক্ষাঃ

পেঁপের বীজে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। সে কারণেই ফুড পয়জনিং সংক্রান্ত সমস্যায় একে প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় এই বীজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। নিয়মিত কিন্তু পরিমিত মাত্রায় খেলে শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।


পেঁপের বীজ খাওয়ার সঠিক উপায়ঃ

পেঁপের বীজ খাওয়ার বেশ কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে। রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে স্যালাডের উপর ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে। দই বা সসের সঙ্গেও মেশানো যায়। কেউ কেউ হালকা ঝাঁঝালো স্বাদের কারণে গোলমরিচের বিকল্প হিসাবেও এটি ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক টেবিলচামচ পর্যন্ত পেঁপের বীজ খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি।

-সংগৃহীত ।

07/02/2026

বুকে ব্যথা হলে ভুলেও যেসব কাজ করা যাবে না


বুকে ব্যথা শুরু হলেই উদ্বেগ বেড়ে যায় সবার মনে। সেই ভয়ের মুহূর্তে কেউ কেউ আবার এমন কাজ করে বসেন, যা তখন না করলেই ভালো। বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা ভেবে ভুল করেন অনেকে, অনেকে আবার বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ পুরে দেন মুখে, কেউ কেউ আবার ক্ষণিকের ব্যথা ভেবে বাড়িতেই বসে থাকেন। এসব সাধারণ ভুলগুলো কিন্তু বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে যখন তখন।

বুকে ব্যথা শুরু হলে অনেকে কোনোরকম ভাবনাচিন্তা না করেই ইকো করাতে ছোটেন। ইকো বা ইকোকার্ডিয়োগ্রাফি হলো এক বিশেষ প্রকারের আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা, যার মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রের গঠনগত সমস্যা ও কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, ইকো একান্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, কিন্তু ঠিক কী কারণে ইকো করাবেন, তা জানাটাও জরুরি।

ইকো করালে হৃৎপিণ্ডের গঠন, ইজেকশন ফ্র্যাকশন এবং হৃৎপিণ্ড কতটা কার্যকরভাবে শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।

এটি ভাল্‌ভ-সম্পর্কিত সমস্যাগুলোকে শনাক্ত করতেও সাহায্য করে, এ ছাড়া পূর্বে হার্ট অ্যাটাকের কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশির কোনো অংশ সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে কি না, সে বিষয়ও ধারণা পাওয়া যায় ইকোর রিপোর্ট দেখে।

তবে ইকোর রিপোর্ট দেখে কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির বিষয়ে কোনোরকম আঁচ পাওয়া যায় না। হৃৎপিণ্ডের পেশিগুলোর কাজ করার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন। যখন হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং একই সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তখন এই ভারসাম্যহীনতা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।

এই ভারসাম্যহীনতা চোখে পড়ে ইসিজি আর ট্রেডমিল টেস্টের রিপোর্টে। তাই বুকে কোনো রকমের অস্বস্তি হলে যদি হার্টজনিত সমস্যা মনে হয়, তাহলে ইকোর আগে ইসিজি আর ট্রেডমিল টেস্ট করানো বেশি জরুরি।

-সংগৃহীত ।

সিজার পরবর্তী সময়ে নরমাল ডেলিভারি, কখন সম্ভব?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেন্সিতে সিজার করার দরকার হয়। ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব অবস...