দেশের প্রচলিত চিকিত্সার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যবাহী চিরায়ত চিকিত্সাপদ্ধতি আয়ুর্বেদকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে মূলধারার সম্পৃক্ত করা উচিত । বর্তমান বাস্তবতায় এটি এখন একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’—এই থিমকে প্রাধান্য দিয়ে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারত মহাদেশীয় অঞ্চলে আয়ুর্বেদ চিকিত্সাপদ্ধতির উদ্ভব হয়েছিল। এই আয়ুুর্বেদ হলো স্বাস্থ্যের জন্য একটি সামগ্রিক পদ্ধতি, যা সুস্থতার জন্য শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক দিকগুলোকেও বিবেচনা করা হয়। আয়ুুর্বেদীয় ভেষজ ওষুধ, যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম ম্যাসেজ, পুষ্টিকর ডায়েটসহ স্বাস্থ্য এবং আত্মিক-মানসিক প্রশান্তিকে উন্নীত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি (থেরাপি) ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশ এখন ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাত এসডিজির একটি অপরিহার্য অংশ। এসডিজির ৩.৮ টার্গেটে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। আমরা যদি এই সময়ের মধ্যে আমাদের স্বাস্থ্য খাতে এই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে আরো উন্নত করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে এটি আমাদের জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করবে, এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জিত হবে না।
আমাদের স্বাস্থ্য খাতে চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে আয়ুর্বেদ এবং ইউনানির ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আয়ুর্বেদ এবং ইউনানির মতো ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ব্যবহারের জন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, এটি সাশ্রয়ী এবং আমাদের দেশে সহজেই পাওয়া যায়।
পশ্চিমা বিজ্ঞানীরাও ঐতিহ্যগত ওষুধের প্রতি ক্রমবর্ধমান মনোযোগ দিচ্ছেন। প্রমিত ফর্মুলেশন এবং আধুনিক উত্পাদনপদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রাচীন পদ্ধতিটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাকৃতিক চিকিত্সা আয়ুর্বেদ-ইউনানীর ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি দেশের সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বৈচিত্র্য, নমনীয়তা, সহজলভ্যতা, উন্নয়নশীল দেশে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নত দেশে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, আপেক্ষিক কম খরচ, প্রযুক্তিগত ইনপুটের সুবিধা, আপেক্ষিক নিম্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব হলো ঐতিহ্যগত চিকিত্সাপদ্ধতির কিছু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০০২)।
যেহেতু আমাদের স্বাস্থ্য খাতে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, তাই আমরা ঐতিহ্যবাহী সেক্টরের কর্মীদের ব্যবহার করতে পারি। সময় এসেছে প্রাকৃতিক চিকিত্সাপদ্ধতিকে চিনতে এবং এর কর্মশক্তিকে কাজে লাগানোর। সংশ্লিষ্ট সবাই যথাযথ ভূমিকা পালন করলে ঐতিহ্যবাহী চিকিত্সাব্যবস্থা আমাদের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার আাান্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
-সংগৃহীত ।
